সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা

 প্রিয় বন্ধুরা আপনারা কি সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন?বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি পরও সঠিক উত্তরটি পাচ্ছেন না।আমরা আজকে এই পোস্টটির মাধ্যমে জানতে পারবো সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা ও মধু খাওয়ার নিয়ম ও সময় সম্পর্ক সকল তথ্য জানবো। সকল বিষয়ে সঠিক তথ্যটি জানার জন্য পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ি।


সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা

এছাড়াও আমরা এই পোস্টে আরো অনেক বিষয়ে জানতে পারবো।মধু খাওয়ার নিয়ম ও সময়, ছেলে মেয়ের মধু খাওয়ার উপকারিতা, সেক্সি মধুর উপকারিতা,কি রাতে মধু খাওয়ার উপকারিতা আছে কিনা এই সকল তথ্য আমরা এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে জানতে পারবো। চলুন পোস্টটি পড়া যাক :

মধু কি

সর্বপ্রথম আমাদের জানতে হবে আসলে মধু কি? মানুষ এটাকে কি করে এটা খায় না মাখে না কি করে এটা আমাদের সঠিকটা জানতে হবে যে মধু কি? মধু হলো এক ধরনের মিষ্টিজাতীয় এবং অনেক ঘনত্ব বিশিষ্ট তরল।

এটি মূলত মৌমাছি এবং অন্যান্য সকল পতঙ্গ বিভিন্ন রকম ফুলের থেকে নির্যাস এর মাধ্যমে তৈরি করে, যা মৌমাছি তার মৌচাকে সংগ্রহ করে। আর এই মধু একটি উচ্চ গুন সম্পন্ন ঔষধীয় তেজস তরলিও পদার্থ;যা মূলত সুপেয়।


আমরা অনেক খাদ্য বস্তু তৈরিতে চিনির ব্যবহার করে থাকি কিন্তু যদি মধুর ব্যবহার করি তাহলে চিনির ব্যবহার করা লাগে না এবং এর অনেক সুবিধা রয়েছ। মধুর এক ধরনের বিশিষ্ট গন্ধ রয়েছে যা তাকে চীনের কাছে হার মানায়। 

এর জন্য মানুষ চিনির চেয়েও অত্যন্ত বেশি পছন্দ করে মধু। আমাদের দেশের ম্যানগ্রোভ করে অর্থাৎ সুন্দরবনের মধুর যে বিশেষ এক ধরনের টেস্, এর রং এবং এর যে এক ধরনের বিশিষ্ট হালকা সুগন্ধ বের হয়।

 সুন্দরবনের মধুকে অনেক প্রসিদ্ধ করে তোলে এর ওষুধীয় গুণাবলীর জন্য। সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছ রয়েছে তার মধ্যে কেওড়া একটি কাজ। সুন্দরবনের মধু সাধারণত এই কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। 

সুন্দর মনে কেমন বিভিন্ন ধরনের গান বেচালি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাণী রয়েছেঠিক তেমনি বিভিন্ন ধরনের সম্প্রদায় রয়েছে । তার মধ্যে মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোক এই সুন্দরবনের মধু বিক্রি করে তাদের জীবন যাপন নির্বাহ করে থাকে।

মধুর কিন্তু একটি বিশেষ গুণ রয়েছে তা হলো মধুর গুণাবলী কোনদিনও নষ্ট হয় না। আপনি যদি হাজার হাজার বছর ধরে মধু সংগ্রহ করে রাখেন তাহলেও এর গুনাবলী বিন্দুমাত্র ও নষ্ট হবে না।

মধু খাওয়ার নিয়ম ও সময়

আমাদের দেশের সবাই বিভিন্নভাবে মধু পান করে থাকে।কিন্তু মধুপান করার কোনো নিয়মকানুন নেই।আপনার যখন ইচ্ছা তখন মধু খেতে পারবেন।আমাদের উচিত নিয়মিত মধু পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা।

 এমন কি আমাদের শরীরে ইমিউনিটি সিস্টেমকে অনেকটা শক্তিশালী করে তোলে।এর সাথে মধুর গুণাবলী গুলো আপনার দেহে প্রকাশিত হবে।এর ফলে আপনার দেহে সার্বিক উন্নতি হতে থাকবে। 

আমাদের দেশে অনেক নিয়ম চালু রয়েছে চলুন এর মধ্যে কিছু সম্ভব নিয়ম গুলো আমরা জেনে নেই:
  • আপনি যদি দৈনিক সকালে দুই চা চামচ মধু পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। যা আপনার শরীরের জন্য খুবই উপকারী হিসাবে গণ্য হয়।
  • কোন ব্যক্তি যদি তার ওজন কমাতে চাই তাহলে মধু তার জন্য খুবই উপকারী। কেউ যদি প্রতিদিন সকালে হালকা গরম পানির সাথে ২ চা -চামচ মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করবেন।যা আপনার দেহের মেদ কমাতে অনেকটা সহায়তা করবে।
  • কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে ভেজা কাচা ছোলার সাথে মধু পান করে তাহলে তার সমস্ত শারীরিক দুর্বলতা কমে যাবে।
  • প্রতিদিন সকালে আমরা ব্রেডের সাথে জেলি মিশিয়ে নাস্তা করি।আমরা জেলির পরিবর্তে মধু খেতে পারি।এটি কিন্তু খেতে অনেক বেশি টেস্টি।এটি আমাদের দেহে অধিক পরিমাণে এনাজি প্রদান করে।
  • আমরা অনেকেই চা বা কফি খেতে পছন্দ করি। যার মধ্যে অধিক পরিমাণে চিনি না দিলে খেতে মজা পায় না।আমরা চিনির পরিবর্তে মধু মিশিয়ে পান করতে পারি।চিকিৎসকগণ বলে চিনি হলো হোয়াইট পয়জন।যা আমাদের দেহের অনেক ক্ষতি করে।
  • আপনারা দুধের সাথেও মধু মিশিয়ে খেতে পারবেন।এটি একটি উওম পদ্ধতি। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে দুধ হালকা বা কুশুম কুশুম গরম যেন না থাকে।দুধের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা ঠান্ডা হওয়ার পরে মধু মেশাতে পারবেন।
  • আমরা কালোজিরার সাথেও মধু মিশিয়ে খেতে পারি।কালোজিরা এমন একটি ফল। যেটি মৃত্যু বাদে সকল রোগের ঔষধ। সামান্য কিছু কালোজিরার সাথে ১/২। চা-চামচ মধু মিশিয়ে প্রতিদিন খেতে পারলে অনেক জটিল রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
  • লেবুর সাথেও মিশিয়ে আমরা মধু খেতে পারি।মানবদেহের জন্য লেবু ও মধুর পানি একটি শ্রেষ্ঠ উপাদান। মধুর বিভিন্ন গুণাবলী আমাদের শরীরে শক্তি সঞ্চারিত করে এবং আমাদের ক্লান্তি ভাবটা দূর করে।
  • অনেক ব্যক্তি আছে যারা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য মধু অনেকটা উপকারী বস্তু।সাধারণত ১ গ্লাস পানিতে ৩/৪ চামচ ইছুফগুলের গুড়া এবং ২চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারলে তার শরীরের জন্য অনেকটা সুফল বয়ে আনবে।
  • আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা দারচিনির সাথে মধু মিশিয়ে প্রায় প্রতিদিন খায়।এই উপকরণটি মানুষের রক্তনালির জন্য খুবই উপকারী। অনেকেই হয়তো জানেন এই উপকরণটি রক্তনালির সকল সমস্যার সমাধান করে।এছাড়াও এটি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের প্রায় ১০-১৫ ভাগ কমিয়ে দেয় বিশুদ্ধ মধু।
  • আমরা সর্দি জ্বররে জন্য তুলসীপাতার সাথে ১চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারি।
  • বাসায় খাবার রান্নার সময় গরম খাবারের সাথে মধু মেশাতে পারবেন না।রান্না ঠান্ডা করার পর তার স্বাদ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করতে পারি।
  • গরম পানি অথবা হালকা বা অতিরিক্ত গরম পানির বা দুধের সাথে মধু মেশানো যাবে না।নিদিষ্ট তাপমাত্রা মানে খাবার যোগ্য হলে তারপর মধু মেশাতে পারবো।
  • ছোটো বাচ্চাদের মধু খাওয়ানো যাবে না। ১-১২ মাস পযন্ত বাচ্চাদের মধু হতে দূরে রাখতে হবে।কারণ এদের পরিপাকতন্ত্র শক্তিশালী হয় না।এজন্য ১বছরের বড় বাচ্চাদের মধু খাওয়াতে হবে।
আমরা একটু আগে জানলাম মধু খাওয়ার নিয়ম এখন জানবো কখন বা কোন সময় মধু খাওয়া যায়। মধু খাওয়ার সময়:

একজন মানুষ ইচ্ছা করলে প্রতিদিন মধু খেতে পারে,এমনকি সে দিনের যেকোনো সময়ে মধু পান করতে পারবে।যখন সে একটু ক্লান্ত অনুভব করবে তখনই যদি সে মধু পান করে তাহলে আরাম এবং প্রশান্তি লাভ করবে। 

এর সাথে তার এনাজিও বৃদ্ধি পাবে।মধু যেকোনো সময় খাওয়া যাবে কিন্তু এর সঠিক সময় সকালে খালি পেটে মধু খাওয়া। কারণ যেকোনো সময়ের চেয়ে সকালে মধুর উপকারিতা বেশি।

এজন্য প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেঠে ২/৩ চা-চামুচ মধু চামুচে বা হাতের তালুতে করে খাওয়া।যদি এইভাবে খালি খেতে মন না চায় তাহলে অন্য কিছুর সাথে মিশিয়ে খাওয়া।

সেক্স মধুর উপকারিতা

মধু আমাদের দেহের নানরকম উন্নতি করে থাকে। মধু আমাদের রোগ,ত্বকের যত্ন, রক্তনালি সমস্যা দূর করা থেকে সহ আরো অনেক উপকার করে। মধু আমাদের হাজারো সমস্যা দূর করার পাশাপাশি মানবদেহে সেক্স উত্তেজনা সৃষ্টি করাতে একদম পারদর্শী।

গবেষকগণ নানা রকম পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারছে যে,মধু মূলত আমাদের দেহের সেক্স হরমোনকে সক্রিয় করতে সক্ষম। সেক্স মধুর উপকারিতা অনেক বেশি।

মধুতে বিভিন্ন রকমের উপাদান রয়েছে যা আমাদের রক্তবাহকে স্ফীত করে দেয় এবং রক্ত প্রবাহকে বৃদ্ধি করতে থাকে।রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধির কারণে যৌন উত্তেজনাও তার সাথে সাথে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি হতে থাকে।

এই বিষয় নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় নাম ওয়েল এর গবেষকগণদের ধারণা মতে পুরুষ ও মহিলা দুইজনেরই যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধির এবং সেক্সের স্বাস্থ্যর সতেজতাকে ঠিক রাখতে চাকভাঙ্গা মধু একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

গবেষকগণ দাবি করেন মধুতে এমন সকল সেক্স উপাদান আছে যা পুরুষের যৌন হরমোনের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের সকল ক্ষরণ এবং এর বৃদ্ধিতে একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে ।

 এটি শুধু মধুর মধ্যেই আছে।মধুর বিভিন্ন উপাদান রয়েছে তার মধ্যে কিছু অন্যতম উপাদানও রয়েছে আর এই অন্যতম উপাদানের মধ্যে বোরন একটি অন্যতম। এই উপাদানটি মহিলাদের যৌন হরমোনের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন ক্ষরণের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

আর এই বোরণ হলো মধুর একটু অন্যতম বিশেষ উপাদান।মানবদেহে এক ধরনের নাইট্রিক এসিড রয়েছে। মধু মলত এই নাইট্রিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধিতে কাজ করে। 

যা আমাদের দেহের রক্তপ্রবাহকে গোলাকারের ডিউটি করতে থাকে। যার ফলে যৌনাঙ্গের রক্ত প্রবাহও দ্বিগুন হারে বেড়ে যায়। যার ফলে আমাদের দেহে যেমন শক্তির সঞ্চার ঘটতে থাকে।

 ঠিক যতটুকু এইভাবে শক্তি সঞ্চার করতে থাকে ঠিক ততটুকুই যৌন উত্তেজনার বৃদ্ধ হয়ে থাকে। সেক্স ক্ষেত্রে মধুর উপকারিতার কোন বিকল্প নাই।

গবেষকগণ এর আগে তরমুজের ডায়াগ্রামের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে যে সমানভাবে কাজ করতে থাকে।কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম যে মধু কিন্তু কম যায় না। 

মধু মূলত আমাদের দেশ শারীরিক-মানসিক উত্তেজনার পাশাপাশি সেক্স উত্তেজনার কাজও সমানভাবে করে।

রাতে মধু খাওয়ার উপকারিতা?

আমরা যেকোনো সময়ে মধু খেতে পারি।কিন্তু সকালে এবং রাতে মধু পান করা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। রাতে ঘুমানো আগে ১চা-চামচ মধু খেয়ে ঘুমালে স্বাস্থ্যের অনেক রকম প্রব্লেম থেকে আরাম পাওয়া যায়।

মধুতে অনেক রকমের ভিটামিন রয়েছে। চলুন আজকে জানা যাক রাতে মধু খাওয়ার উপকারিতা কি:;
  • কোন ব্যক্তি রাতে ঘুমানোর আগে ১ চা-চামচ মধু খেয়ে ঘুমালে তার কাশিসহ গলাব্যাথা ভালো হয়ে যাবে। মধু মানুষের কফকে অনেকটা পাতলা করে এবং তা সহজেই বের করতে সহায়তা করে।
  • কোন ব্যক্তি তার ঘুমানোর আগে হালকা গরম দুধের সাথে ১চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাকে সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করবে।
  • আমরা ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য অনেক কিছু ব্যবহার করে থাকি।কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি রাতে ঘুমানো আগে ১ চা-চামচ মধু খেয়ে ঘুমালে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে এবং মুখমন্ডল পরিষ্কার হবে। এর সাথে মুখ ফসা করবে।
  • কোন ব্যক্তি যদি রাতে ঘুমানো আগে১ চা-চামচ মধু খেয়ে ঘুমালে তার চুলের বৃদ্ধির সাথে সাথে চুলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে মধু।
  • অনেক ব্যক্তি আছে যাদের মুখে ব্রণের সমস্যা রয়েছে তারা প্রতিদিন রাতে মধু খেয়ে ঘুমালে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আবার রাতে ঘুমানো আগে মুখে যেসকল জায়গায় ব্রণ আছে সেই স্থানে মধু লাগিয়ে রাখতে হবে।
  • কোন ব্যক্তি খাবার খাওয়ার ২/৩ ঘন্টা পরে যদি মধু খেতে পারে তাহলে তার ওজন কমাতে পারবে।
  • আমরা কাশির ঔষধ হিসেবে মধু খেতে পারি। প্রতিদিন রাতে ১ চা-চামচ মধু খেলে কাশি গলা ব্যাথা থেকে আরাম পাওয়া যাবে।

সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার উপকারিতা?

মধু আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। মধুতে নানরকম গুনাবলি ও ভিটামিন রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তি তার খাদ্য তালিকায় মধুকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

আর সেটি যদি সকালে খালি পেটে হয় তাহলে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে একদম উচ্চ স্থানে নিয়ে যায়।গবেষকগন তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে বলেছেন যে সকালে খালি পেটে মধু খেলে ওজন কমবে। 

বিশেষ করে সকালে খালি পেটে মধুর সাথে হালকা বা কুশুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ওজন দ্রুত কমে যাবে এবং লিভার পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও অনেকটা কা্যকরী।

সকালে খালি পেটে মধু খাওয়ার ফলে শরীরে প্রচুর পরিমানে শক্তির সঞ্চার হতে থাকে।আমাদের শরীরে কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সকালে মধু খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি হয়।

শরীরের দূবলতা দূর করে এবং কমদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আরো আমাদের দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

ছেলে ও মেয়ের মধু খাওয়ার উপকারিতা?

মধু ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রে উপকারি।মেয়েদের মধু খাওয়ার ব্যাপারে অন্তসত্তার জন্য মধু অনেক উপকারী। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা কমে যায়

 কিন্তু মধু খাওয়ার ফলে সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আবার পুনরায় বৃদ্ধি পায়। মধু অন্তঃসত্ত্বের নারীদের শক্তি সঞ্চারের কাজে ব্যবহৃত হয়। এটি নারীর দেহে শক্তি সঞ্চয় করে নারীকে কমক্ষম করে তোলে।

মধুতে বিভিন্ন রকমের অ্যান্টো ভাইরাল থাকে যা ঠান্ডা প্রতিরোধে কাজ করে। অন্তঃসত্ত্বার নারী যদি এক চা চামচ মধু কফি বা চায়ের সাথে মিশিয়ে খায় তাহলে তার ঠান্ডা প্রতিরোধে কাজ করবে। 

রাতে ঘুমানোর ক্ষেত্রে এবং তাদের বিভিন্ন ব্যথার কারণে রাত্রে ঘুমাতে পারে না যার ফলে অনিদ্রের সমস্যা সৃষ্টি হয় কিন্তু রাত্রে দুধের সাথে এক চা -চামুচ মধু পান করলে তাদের অনিচ্ছা সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

ছেলেদের ক্ষেত্রেও মধু শরীরে বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ কর।মধু ছেলেদের বিভিন্ন কাজে উপকারিতা হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন রকম রোগ বালাই যেমন সর্দি কাশির, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য হজম শক্তি বৃদ্ধি।

এই সকল প্রকার রোগের ঔষধ হিসেবে কাজ করে মধু।স্পেশালি মধু ছেলেদের সেক্স হরমোনকে উত্তেজিত করে এবং সক্রিয় করে থাকে। যার ফলে যৌন ক্ষমতা পরিমাণের তুলনায় বেড়ে যায়।

ইসলামে মধু খাওয়ার নিয়ম?

ইসলামের শরীযত অনুসারে আপনি যে কোনো সময় মধু খেতে পারেন। কিন্তু সকালে খালি পেটে মধুর কার্যকারিতা অধিক পরিমাণে বেশি পাওয়া যায়। 

মধুর বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে যা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ কর। এই ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন মধু মানব দেহের সকল প্রকার রোদের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

আরো বলেছেন মধু মানুষের বিভিন্ন রোগের প্রতিকার এবং কোন অসুস্থ্য ব্যক্তিকে মধু খাওয়ালে সেই ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হবে।

মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা কি?

আমরা ইতিমধ্যে মধু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে সঠিক সকল তথ্য জেনেছি। মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এন্টি ভাইরাল, ভিটামিন, ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান যা মানব দেহের সার্বিক উন্নয়নে নিয়োজিত।

 তাহলে বোঝা যায় যে মা মধু খাওয়ার ফলে মানব দেহের কতটা উন্নতি হয় এবং অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মধু যে শুধু কেবল আমাদের উপকারিতা হিসেবে কোন তা কিন্তু নাই এর কিছু অপকারিতার দিকেও রয়েছে। 

অপকারিতা বলতে কিন্তু বেশি গুরুত্বপূর্ণ না।চলুন আমরা এর অপকারিতা সম্পর্কে জানব
  • যে সকল ব্যক্তিদের এলার্জি সমস্যা রয়েছে সে সকল ব্যক্তিদের মধু খাওয়া যাবে না কারণ মধুতে অধিক পরিমাণে এলার্জি রয়েছে।
  • অনেক ব্যক্তি আছে যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তারা যদি মধু পান করে তাহলে তাদের ডাইবেটিসের মাত্রাটি বেড়ে গিয়ে তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
  • মধু পরিমাণের তুলনায় অধিক পরিমাণে খেলে পেটে ব্যথা সহ বারবার পাতলা পায়খানা ডায়রিয়া হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।
  • অধিক মধু পান করার ফলে বদহজম সমস্যার দৃষ্টি হতে পারে
মূল কথা হলো মধু আমাদের দেহের জন্য একটি নিয়ামক হিসেবে গণ্য করতে পার। মধুর মধ্যে বিভিন্ন রকম উপাদান রয়েছে যা শুধু আমাদের দিকে শারীরিক উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত রয়েছ। 

মধু আমাদের বিভিন্ন রকম রোগ বালাই থেকে রক্ষা করে। মধু প্রায় প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের কাছে এক প্রকার ঔষধীয় হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু আমরা যেকোনো জিনিস যদি পরিমাণের তুলনায় অধিক পরিমাণে খেয়ে থাকি তাহলে যে কোন কিছুরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ উপকারের চেয়ে অপকারের সৃষ্টি হবে। তাই আমরা নিয়ম অনুযায়ী মধু সেবন করে থাকবো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১