ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠকবৃন্দ।আপনারা সবাই কি ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? কিন্তু কোথাও সঠিক উত্তরটি খুঁজে পাচ্ছেন না। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা ড্রাগন ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। চলুন পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়িঃ
এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা আরো জানতে পারবো ড্রাগন ফল কি, ড্রাগন ফলের উপকারিতা, এর অপকারিতা সম্পর্কেও। আরো জানবো ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম টবে ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি, কোন মহিলা কি গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফল উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। এই সকল বিষয় সঠিক তথ্য জানতে হলে আমরা মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়বো। চলুন আমরা মনোযোগ সহকারে পোস্টটি পড়ি এবং এর সকল তথ্যগুলো জেনে নেইঃ
ড্রাগন ফল
বর্তমান যুগে ড্রাগন ফল একটি অতি সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় ফল। আমরা সকলেই জানি ড্রাগন ফল মূলত এমন একটি ফল যা পাহাড়ি অঞ্চলে বেশি হয়ে থাকে।
কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়ার কারণে আমাদের প্রায় সারা দেশেই এই ড্রাগন ফলের চাষ বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে বলতে গেলে এর জনপ্রিয় এতটাই বেশি যে আমাদের দেশের প্রায় কম বেশি সব মানুষই এই ফলের এখন চাষ করছে।
আমাদের দেশের মানুষেরা এটি চাষের জন্য জমি বা বাসার বিভিন্ন জায়গায় বা ছাদে টবের মধ্যে এটিকে চাষাবাদ করছে। এই ড্রাগন ফল খেতে অনেক রসালো এবং সুস্বাদু। এটি মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে, যেমনঃহলুদ লাল এবং সাদা।
এই ড্রাগন ফলের বাহিরের আবরণ মূলত লালরী হয়ে থাকে এবং এটি কাটার পর তার ভিতর এই ৩/৪ ধরনের রং হয়ে থাকে। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বড়রা প্রায় রসালো এবং মিষ্টি এই ফলটি খেতে অনেক পছন্দ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ড্রাগন ফলের মধ্যে এক ধরনের রঙিন পিগমেন্টেনশন তৈরি হয় যা মূলত মানব দেহের পুষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়।এখন বলা যায় যে ড্রাগন ফল আমাদের দেশে অতি সহজে পাওয়া যায় এবং এর দামও এখন অনেক কম।
ফলটি অতি আকর্ষণীয় হওয়ার মূল কারণ হলো এর বিভিন্ন রং। আর বিভিন্ন রঙের পাশাপাশি এর সাধও ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মিষ্টি রসালো, রঙিন ও বিভিন্ন স্বাদের কারণে এটি অতি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
ড্রাগন ফলের উপকারিতা অপকারিতা
ড্রাগন এমন এক ধরনের ফল যেখানে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ক্যালসিয়াম সহ বিভিন্ন প্রকার উপাদান৷ যা মানব দেহের বিভিন্ন উপকার হিসেবে কাজ করে।চলুন আজকে আমরা জানবো ড্রাগন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতঃ
- ড্রাগন ফলের মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক উপাদান রয়েছে। এটি ছাড়াও ক্যালসিয়াম রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। যাদের দেহের বাহারের বিভিন্ন জায়গায় ক্যালসিয়ামের অভাব থাকে। তাদের জন্য এই ফলটি অনেক উপকারী। কেননা এই ড্রাগন ফল আমাদের দেহের সকল জায়গার ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটাতে পারে।
- ড্রাগন ফল বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।কেননা এখানে রয়েছে ভিটামিন এ ও বিটা ক্যারোটিন যা বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।এছাড়াও ছোটদের চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ানোর সহ চোখের সমস্যার জন্য, এমনকি বড়দের শরীরেও এই সকল উপাদান সরবরাহ বা যোগান দিতে পারে শুধুমাত্র ড্রাগন ফল।
- ড্রাগন ফলে এই সকল উপাদান ছাড়াও আরেকটি বিশেষ রকমের উপাদান পাওয়া যায় সেটেল ওমেগা ৩।এই ওমেগা ৩ আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয় না। এই উপাদানটিকে আমাদের বাহিরে থেকে শরীরে যোগান দিতে হয়।আমরা মাছ খাওয়ার মাধ্যমে এই ওমেগা থ্রি উপাদানটি আমাদের শরীরে যোগান দিতে পারি। আর যেহেতু ড্রাগন ফলে ওমেগা থ্রি পাওয়া যায়। এর ফলে আমরা আমাদের দেহে এই উপাদানটির যোগান অতি সহজেই দিতে পারে।বিশেষ করে পিসিএস রোগের জন্য নারীদের ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। আর এই বিশেষ উপাদানটি আমরা ড্রাগন ফলের মাধ্যমে পেয়ে থাকি।
- আমরা সকলেই ড্রাগন ফল এর মধ্যে এক ধরনের সাত কালো ছোট ছোট সিড দেখে থাকি। এই সিট গুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, থায়ামিন, প্রোটিন ও ভিটামিন-বি। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে আয়রন যা শুধুমাত্র ড্রাগন ফল এ পাওয়া যায।
- ড্রাগন ফলে এক ধরনের ফাইবার নামক উপাদান পাওয়া যায়। এই ফাইবার মূলত আমাদের দেহকে কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসহ ক্লোনের সমস্যা থেকে রক্ষা কর।
- ড্রাগন ফল কিন্তু ফ্যাট ফ্রি।এটি মানুষের অনায়াসে তার ডাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
- আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ভিটামিন সি এর অত্যন্ত প্রয়োজন। আর এই ভিটামিন সি ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ড্রাগন ফল রোগ প্রতিরোধ করার পাশাপাশি আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- কারো দেহে যদি রক্তশূন্যতা হয়ে থাকে তাহলে সে এই ড্রাগন ফলটি প্রতিদিন খেতে পারে তাহলে তার দেহে রক্তশূন্যতা দূর হয়ে যাবে।
- ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে রক্তের শর্করা পরিমাণ বৃদ্ধি হয়।
- ড্রাগন ফল মানব দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- মানব দেহের জন্য বর্তমানে ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি রোগ। আর ড্রাগন ফল এই মরণব্যাধির ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে অনেক সাহায্য করে।
- ড্রাগন ফলের ভিতরে যে কালো কালো কালোজিরার মতন ছোট ছোট শিব থাকে সেগুলোতে ওমেগা নাইন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে । যা আমাদের হার্টের রোগ থেকে রক্ষা করে।
ড্রাগন ফলের অপকারিতা
ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি ড্রাগন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে। আর এখন আমরা জানবো ড্রাগনফলের অপকারিতা সম্পর্ক। ড্রাগন ফল আমাদের উপকারে হিসেবেই গণ্য হয় কেননা এর অপকারিতা বেশি নয়।চলুন আমরা জেনে নেই ড্রাগন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে
- যাদের রয়েছে এলার্জির সমস্যা রয়েছে তাদের ড্রাগন ফল না খাওয়াই উত্তম।কেননা এলার্জি কারণে হাত পা চুলকানো সহজ ও শরীরে বিভিন্ন অংশে ফুলে গিয়ে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কারো যদি এলার্জি সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
- একটু আগে আমরা জেনেছি ড্রাগন ফলে এক ধরনের ফাইবার রয়েছে যা আমাদের হজম শক্তিকে নষ্ট করতে পারে।যার ফলে ডায়রিয়া জনিত রোগ হতে পারে।
- বর্তমানে এই ফল এতটাই প্রচলন তো হয়ে গিয়েছে যে এর দাম প্রায় আকাশছোঁয়া। এটি বিদেশি ফল হওয়ার কারণে মানুষ আরো এর দাম বৃদ্ধি করছে।যার ফলে আমাদের দেশের গরীব মানুষের এটি কিনে খেতে পারছে না।
- যে সকল মানুষগণ দীর্ঘদিন যাবত ওষুধ সেবন করে থাকেন। তাদের এই ফল থেকে দূরে থাকাই ভালো। কারণ এই ড্রাগন ফল আর ওষুধের মিশ্রণের ফলে রিয়েকশনটা খারাপের দিকে যেতে পারে।
এগুলোই হলো ড্রাগন ফলের অপকারিতা । প্রায় সকল জিনিসেরই উপকারী এবং অপকারের দিক রয়েছে আমরা এখন যেদিকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবহার করব তারপর সেটাই পাবো।
ড্রাগন ফল খাওয়ার নিয়ম
ড্রাগন ফল মূলত লাল রং এর হয়ে থাকে। ওপর থেকে লাল রং হলেও ভিতরে তিন রকমের হয়ে থাকে। একটা লাল,অন্যটি সাদা এবং অপরটি হলুদ।
আমরা মূলত লাল রং ড্রাগন খেয়ে থাকি। ড্রাগন ফল মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদ ফল। অনেক সময় এই আশীবাদ মানুষের জীবনে অভিশাপ হিসাবে চলে আসে ।
এর কারণ হলো সঠিক নিয়মে যদি খবার খাওয়া না যায় ।আমাদের মধ্যে অনেকে আছে যারা মনে করি ফল আমরা যে কোনো সময় খেতে পারি কিন্তু এই চিন্তাটা সম্পূন ভুল ধারণা।
কারণ ফল এমন একটি খাবার যা মানুষ যদি সঠিক সময়ে না খেতে পারে অনেকের জন্য এইটা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়াই । চলুন এখন আমরা জানবো সঠিকভাবে কিভাবে ড্রাগন ফল খেতে হয়। নিচের পয়েন্ট গুলো পড়ে সঠিকটা যেনার চেষ্টা করিঃ
- ড্রাগন ফল নির্বাচনের আগে সর্বপ্রথম আগে ফলটি ভালো আছে কিনা বা এটা সম্পূর্ণরূপে ভালোভাবে পেকেছে কিনা এটা নির্বাচন করতে হবে। সব সময় ড্রাগন ফল নির্বাচন করবেন অনেকগুলোর মধ্যে থেকে ভালো টি। যার ফলে আমরা সর্বোচ্চ উত্তম ফলটি আমাদের জন্য নির্বাচন করতে পারব।
- ড্রাগন ফল নির্বাচনের আগে সর্বোত্তম তার ওপরের যে খোলটি থাকে সেটি আগে দেখে নিতে হবে। যেন কেডা সেটাতে কোন ক্ষত বা কোন প্রকার পচন ধরনের কোন প্রবচন দেখা যাচ্ছে কিনা। এ রূপ যদি কোন হত বা পচন দেখা না যায় তাহলে ফলটি খাওয়ার জন্য একেবারেই যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি এটাতে কোন প্রকার চিহ্ন বা কোন পচন দেখা যায় তাহলে এই ফলটি না খাওয়াই উত্তম।
- যেকোনো ফল ধীরে ধীরে খেতে হবে ঠিক তেমনভাবে ড্রাগন ফলও ধীরে ধীরে এবং টুকরো করে এগুলো খাওয়া উত্তম।
- কোন ফল পরিপূর্ণভাবে পাকার পরে খাওয়া উত্তম। কেননা সম্পূর্ণরূপে ফলটি যদি না থাকে তাহলে তার গুনাগুনটি প্রকাশ পাবে না। ঠিক তেমনি ড্রাগন ফল সম্পূর্ণ পাতার পরে এটি খাওয়া উচিত।তাহলে এর পুষ্টি সম্পূর্ণরূপে আপনি পেতে পারবেন। অর্ধ পাকা বা কাঁচা এই ফলটি খাওয়া উচিত নয়।
- আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি যে অতিরিক্ত কোন কিছুই খাওয়া ভালো না ঠিক এমনই ড্রাগন ফল অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয় । ঠিক ড্রাগন ফলো মাঝারি পর্যায়ে খাওয়া উচিত . আর এই মাঝারি পর্যায়ে খাওয়ার ফলে উপকারিতা বেশি শরীরে পাওয়া যায়।
- যাদের বিভিন্ন ধরনের এলার্জি বা অন্যান্য রোগ রয়েছে সে সকল রোগের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই ড্রাগন ফল খাওয়া উত্তম বা উচিত।
- যে কোন জিনিসেরই মেয়াদ রয়েছে। ঠিক ডাগন ফলের মেয়াদ রয়েছে ফলটি বেশি পরিপূর্ণ হয়ে গেলে এটি নষ্টের দিকে চলে যায়। তাই এই ফলটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই আমরা সেটি ভালোভাবে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে খাওয়ার চেষ্টা করবো।
- ড্রাগন ফল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করব কেননা এটাতে পোকার আক্রমণ বেশি হয
টবে ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি
আমাদের দেশের আবহাওয়া বা জলবায়ু অত্যন্ত নাতিশীতোষ্ণ। যার ফলে আমরা অতি সহজে যেকোনো ধরনের সবজি ফল বা ফলের গাছ লাগিয়ে সেগুলো চাষাবাদ করতে পারি।
এর মধ্যে ড্রাগন ফলের চাষাবাদ টা অত্যন্ত পরিমাণ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। আর আমাদের দেশের আবহাওয়ার ড্রাগন ফল চাষের জন্য একদম উপযোগী। ড্রাগন ফল এক ধরনের শক্ত প্রজাতির গাছ ।
যার ফলে এটি যে কোন জায়গায় হতে পারে। বর্তমানে এটির চাষাবাদ বাড়ির ছাদ বাগানে বা টবে বহুল প্রচলিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে।
বাড়ির ছাদের বড় বড় টবে এগুলো চাষ করা অত্যন্ত সহজ।কেউ যদি এর ফল ভালোভাবে পেতে চায় তাহলে চারা রোপণ করার সূবণ সময় হলো এপ্রিল -সেপ্টেম্বর মাসে চারার ওপর করার একদম সঠিক সময়।
ছাদের টবে না লাগিয়ে একটি উঁচু ড্রাম অর্থাৎ প্রায় ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার গভীর এমন ড্রামে ড্রাগন ফল লাগানো উচিত। কেননা এই সকল ড্রামে গাছের শিকড় গুলো অতি সহজেই মেলতে পারে এবং বড় হতে পারে।
আর আমরা সকলেই জানি যে গাছের শিকড় যত বেশি হবে সেটির ফলন তত বেশি ভাব পাওয়া যাবে। ড্রাগন ফলের জন্য সর্বপ্রথম মাটি নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।
আর আমরা বলতে পারি যে ড্রাগণ প্রায় সব মাটিতেই হয় কিন্তু এর ভালো ফলন যদি কেউ পেতে চায় তাহলে জৈব পদার্থ যুক্ত মাটিতেই লাগানো উত্তম এবং বেলে দোআস মাটি ও সাথে থাকতে হবে। আপনি সর্বপ্রথম আগে বেলে দোআঁশ মাটি সংরক্ষণ করবেন।
তারপর এই মাটি থেকে পাথর কুচিপাড়া না যেগুলো অপ্রয়োজনীয় জিনিসের সেগুলো পরিষ্কার করে অথবা পরিষ্কার মাটি বেছে নিতে হবে এরপর এই মাটিতে মাটির সমপরিমাণ গোবর মিশাতে হবে এতে কিছু ষাঁড় প্রয়োগ করতে হবে যেমন পঞ্চাশ গ্রাম পটাশ এবং ডিএসপি নামক এক ধরনের সার রয়েছে কেউ প্রায় ৫০ গ্রাম দিতে হবে এবং এটি ভালোভাবে মাটির সাথে মিশাতে হবে।
ভালোভাবে মেশানো হলে এটিকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এবং মাটি যেন ঝুরঝুরা হিসেবে ড্রামের মধ্যে স্থাপন করা হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে আর এই মাটি তৈরি করার জন্য প্রায় চার থেকে পাঁচ দিন এই অবস্থায় রাখা লাগবে। আমরা যে অতীত পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখো সেটা যদি শুষ্ক অথবা শুকনা হয়ে আসার শুরু করে তাহলে আমরা চ্যানেলটি রোপণ করতে পারব।
ড্রাগন ফুল এক ধরনের ক্যাকটাস জাতীয় ফলের গাছ এর জন্য এইটাকে বেশি পরিচর্যা না করলেও হয়। এতে পানির শিশু অল্প লাগে। এই গাছটিতে রোগবালার আক্রমণও কম কিন্তু আপনি যদি পারপার্শ্বিকভাবে এই গাছকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে না রাখেন তাহলে দিতে ফল পাওয়া যাবে না।
সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন এটাতে পানি দেওয়া উত্তম কিন্তু 15 দিন পরপর যদি কেউ পানি দেয় তাহলে এটি সবচাইতে উত্তম হবে খেয়াল রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত পানি ড্রাগন ফলের গাছের গোড়ায় বা আশেপাশে কথা যেন জমে না থাকে।
কারণ এই জমে থাকা পানিগুলো গাছকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাবে। এবং ড্রাগন ফলের গাছের সাথে একটি খুঁটি জাতীয় স্তম্ভ স্থাপন করতে হবে এবং গাছ থেকে স্মৃতির সাথে ভালোভাবে বেঁধে রাখতে হবে কেননা এই গাছ শুধু ডালপালা আমরা লাউ গাছের মত এর পুশি বের হয় যার ফলে গাছটি অতি সহজে চারিদিকে হেলে যায়।
খুটি জাতীয় স্তম্ভ করে তার সাথে ভালোভাবে বেঁধে এবং উপরের টায়ার দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। ড্রাগন ফলের ফল সংগ্রহ করা অত্যন্ত সহজ একটি কাজ। ড্রাগন ফলে যে চারা স্থাপন করা হয় সেই চারা প্রায় এক বছর থেকে দুই বছর অথবা ১৮ মাসের মধ্যেই সিঁড়িতে ফল দেওয়া শুরু করে।
ফল সাধারণত প্রায় ৪০ থেকে ৪১ দিনের মধ্যেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় যা খাওয়ার উপযুক্ত হিসেবে গণ্য হয় এবং সেটি আপনারা সংগ্রহ করতে পারবেন। এই গাছে অতিরিক্ত কোন কিছুই প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই আমরা যত সম্ভবত চেষ্টা করব জৈব সার এবং অল্প সামান্য শারে গাছে প্রয়োগ করার।
কেননা যদি অতিরিক্ত সার ব্যবহার করি তাহলে গাছটি ফুলে ফেঁপে যাবে যার ফলে কোন ফল আমরা পাব না। সব সময় চেষ্টা করব পরিমাণ মতো সার প্রয়োগ করার। আমরা ঘরে প্রায় প্রতিটি গাছের গোড়ায় ৫০ গ্রামের বেশি কোন সার প্রয়োগ করবো না।
গাছটি যখন এক থেকে দেড় বছর হয়ে যাবে তারপরে আমরা ইউরিয়া পটাশ ফসফেট ডিএসপি এবং জৈব সার সহ যত প্রকার সাহায্যে সবগুলো মিশে প্রতিটি গাছের গোড়ায় ২৫০ গ্রামের বেশি দেবনা।
য়ভভগ য়ভএবং সার প্রয়োগ করার গাছটিকে ভালোভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে তার ওপর সার প্রয়োগ করবো যেন সারাটি সম্পন্ন গাছের উপকার হিসেবে কাজ করে। আর এইভাবে আমরা বাড়ির ছাদে টবের ড্রাগন ফল চাষাবাদ করতে পারি
গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের উপকারিতা
মেয়েদের জন্য গর্ভবতী হওয়া এক ধরনের নিয়ামত। এই সময় মেয়েদের বিশেষ করে যত্ন এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। এই সময় অনেক কিছু খাওয়ার অনুমতি থাকে আবার অনেক কিছু খাওয়ার অনুমতি থাকে না।
গর্ভাবস্থায় মেয়েদের বিভিন্ন রকম পুষ্টিদায়ক ফল মূল থেকে সহকারে সকল প্রকার পুষ্টিকর খাবার সেবন করার প্রয়োজন হয় । কিন্তু আমাদের দেশের অনেক নানী চাচীরা আছে যারা ডাক্তার ঘর বা বিশেষজ্ঞদের থেকেও অনেক বড়। তারা আমাদের দেশের গর্ভবতী মহিলাদের বিভিন্ন রকমের পুষ্টিকর ফল দিয়ে খাবার থেকে দূরে রাখে।
গর্ভাবস্থায় মেয়েদেরকে পেঁপে ও আনারস খেতে দেওয়া হয় না।কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করে ড্রাগন ফল গর্ভাবস্থা মহিলাদের জন্য অত্যন্ত এবং আবশ্যকীয় একটি ফল। কেননা এই ড্রাগন ফলে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার উপাদান সহ পুষ্টি এবং দেহের ক্যালসিয়াম এর অভাব পূরণ করার শক্তি। এর সাথে রয়েছে আরও রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা।
দেহকে সুস্থ এবং সচল ও উজ্জীবিত রাখার জন্য ড্রাগন ফল ব্যবস্থা মহিলাদের জন্য অত্যন্ত আবশ্যকীয়।গর্ভাবস্থায় মহিলাদের দেহে আয়রনের অভাব হয়। কিন্তু এই ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে সেই আয়রনের অভাব পূরণ হয়ে যায়। ড্রাগন ফলে রয়েছে ভিটামিন সি জাতীয় উপাদান যা মূলত আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সহ বিভিন্ন রোগের সাথে মোকাবিলা করার শক্তি প্রদান করে ।
আর গর্ভাবস্থায় এই মহিলারা বিভিন্ন রোগে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা কমে যায়। গর্ভাবস্থায় দেহের রক্তস্বল্পতা থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপ এবং অনেক সময় অনেক মহিলাদের হার্টের সমস্যার সৃষ্টি হয়।এই সকল কিছুর পুষ্টি একটিমাত্র ফল থেকে পেতে পারি সেটা হল ড্রাগন ফল।
ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে গর্ভাবস্থায় মহিলাদের বাচ্চা শক্তি সরবরাহ করতে থাকে । এছাড়াও বাচ্চার হাড় বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্রে ড্রাগন ফল অত্যন্ত উপকারী। কেননা এই ড্রাগন ফল খাওয়ার ফলে হার বিকশিত ও হাড়ের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করে।
এখন পর্যন্ত কোন ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করতে পারেনি যে ড্রাগন ফল গর্ভাবস্থা মহিলাদের জন্য নিরাপদ বা ক্ষতিকর। তাই আমরা বলতে পারি ড্রাগন ফল গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জন্য একটি বিশেষ নিয়ামক বা অত্যন্ত উপকারী একটি ফল হিসেবে গণ্য হয়।
মূল কথাঃ আমরা সকলেই উপরের টপিকটি পড়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম ড্রাগন ফল খেলে ততটা উপকারী হতে পারবে এবং কতটা অপকার হতে পারে।উপরে বিস্তারিত পড়ার ফলে আমরা বুঝতে পেরেছি যে ড্রাগন ফল আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল ।
ছোট বড় এবং বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জন্য এই ফলটি একটি বিশেষ নেয়ামক। এই ফলটি খাওয়ার ফলে আমরা আমাদের শরীরকে তো রোগমুক্ত রাখার পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ সবল এবং আমাদের হাড়কে মজবুত করতে পারছি।
ড্রাগন ফল আমাদের দেহে ক্যালসিয়ামের অভাবটাও পূরণ করে। এছাড়াও আমাদের দেহে অত্যন্ত প্রয়োজনে একটি বস্তু সেটি হল আয়রন এই ফলটি এটি অভাবটাও পূরণ করে দেয। তাই আমরা এক কথায় বলতে পারি ড্রাগন ফল আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ফল । আমরা সবাই চেষ্টা করব এই ফলটি নিয়মমাফিক খাবার। সকল পাঠককে ধন্যবাদ আমার পোস্টটি পড়ার জন্য
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url